যেকোন ডিজাইন এর ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পার্ট হল কালার কনসেপ্ট… গ্রাফিক ডিজাইন ও ওয়েব ডিজাইনের ক্ষেত্রে অবশ্যই। এখানে কিছু তথ্য এখানে দেয়া হল:
০১) ডিজাইন করার সময় আমরা দু'টো কালার অলটাইম সিলেকশন এ রাখবো। সাদা আর কালো।
০২) এই সাদা কালো, রঙ দুটোকেই ডিজাইন এবং চোখের সহ্য ক্ষমতা আই মিন চোখের আরামের উপর ভিত্তি করে এদের গাড়ত্ব কমিয়ে বাড়িয়ে ব্যবহার করে যেতে পারে। লাইক : সলিড কালো এরকালার কোড #000, আবার কালো এর অন্য শেড এর কোড #232323। প্রয়োজনমত তা প্রয়োগ করা লাগবে।
০৩) সাথে একটি বেইজ কালার মানে প্রধান কালার রাখা লাগবে যা শুধু প্রধান প্রধান ক্ষেত্রগুলোকে ফুটিয়ে তুলবে।
০৪) এই প্রধান কালারের উপর ডিপেন্ড করে আমরা আইকন কালার কিংবা সেকশন কালার কিংবা ফন্টকালার ডিজাইনের সুবিধার্থে ব্যবহার করব।
০৫) প্রায়ই দেখা যায় টাইটেল ফন্টকালার একটু বোল্ড আই মিন ডার্ক কালার আর প্যারাগ্রাফ কালারটা আরেকটু হাল্কা কালার ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
০৬) ব্যাকগ্রাউন্ড কালার দেয়ার পর খেয়াল রাখা লাগবে আপনার ফন্ট-এর কালারটা তার উপর ম্যাচ করে কিনা। লাইক: ব্যাকগ্রাউন্ড কালার “সাদা” আপনি ফন্ট কালার ও সাদা কিংব তার কাছাকাছি দিলেন তাতে বুঝাই যাচ্ছে না কিংবা “লাল” কালার ব্যাকগ্রাউন্ড এর মধ্যে দিলেন ” নীল” কালার ফন্ট তাতে লেখাগুলো পড়তে কষ্ট হয় আর বুঝাও যায়না। এরকম কিছু এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করতে হবে।
০৭) কালারের ব্যাপারগুলো বুঝার জন্য অনেক ডিজাইন দেখা বাঞ্ছনীয়।
সহজাতগতভাবেই আমাদের মন রংয়ের প্রতি সংবেদনশীল, নন-ভার্বাল কমিউনিকেশনেও রং আমাদের চিন্তা ও আবেগকে খুব সহজে নাড়া দিতে পারে। তাই কোন ডিজাইন যে গোপন অর্থ বহন করে সেটা তাৎক্ষনিকভাবে বুঝে নিতে রং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গবেষণায় দেখা গেছে রং একটি পাওয়ারফুল কমিউনিকেশন টুল, শুধুমাত্র কালার ইফেক্টের ব্যবহার মানুষের মাঝে কেনাকাটার মত অভ্যাসেও বিস্তর পরিবর্তন আনতে পারে। শুনলে হয়তো অবাক হবেন, কিছু রং মানুষের ব্লাড প্রেসার পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে। এমনকি অনলাইন শপিং, এডভার্টাইজিং, মার্কেটিং ক্যাম্পেইনে প্রায় ৮০ভাগ ক্ষেত্রে ক্রেতার আকর্ষণ বাড়াতে রংয়ের ব্যবহারকে উল্লেখযোগ্য বিবেচনা করা হয়। তাই নন-ভার্বাল কমিউনিকেশনে যে পার্টগুলো গ্রাফিক ডিজাইনারেরা ব্যবহার করে থাকেন তার মধ্যে সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ এবং শক্তিশালী হল কালার বা রঙ। এজন্যেই সঠিকভাবে জেনে রংয়ের ব্যবহার করা ফটোগ্রাফার, গ্রাফিক্স ও ওয়েব ডিজাইনারদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।
রঙয়ের ব্যবহার যেহেতু মানুষের মনের উপর প্রভাব বিস্তার করতে বিরাট ভূমিকা পালন করে. তাই কালার ইফেক্টের কিছু সার্বজনীন অর্থও রয়েছে। তাই গ্রাফিক ডিজাইনে বিভিন্ন রঙয়ের ব্যবহার কি অর্থ বহন করে সেটা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অপরিহার্য। বিভিন্ন রং আমাদের মনে বিভিন্ন অনুভুতির সৃষ্টি করে, তাই রঙ এবং এর ব্যবহারে সতর্ক হতে হয় । । চলুন জেনে নিই মনের উপর বিভিন্ন রঙ এর ভূমিকা কেমন হতে পারে:
সাদাঃ
শুদ্ধতা ও শান্তির প্রতীক হিসেবে সাদা রং এর ব্যবহার বিশ্বজনীন। ডিজাইনে এই রঙটি সাধারণত রিভার্সড টেক্সট কিংবা নেগেটিভ স্পেসিং এ বেশী ব্যবহৃত হয়, ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ড লাইফ(WWF) এর লোগোটা দেখুন, আশা করি পরিষ্কার ধারণা পেয়ে যাবেন।
মানুষের মনে সাদা রঙ সাধারণত: যে ধরণের প্রভাব ফেলে তা নিম্নরুপঃ
সাদার পরই যে রঙ এর কথা আসে সেটা হল কালো। সাধারণতঃ কর্তৃত্বপূর্ণ এবং শক্তিশালী একটি রঙ। সম্পদশালী এবং সুরুচিপূর্ণতাকে যেমন তুলে ধরে তেমনি অশুভ ভয় এবং বিষন্ন ভাবের প্রতিকৃতি মনে জাগিয়ে তুলে। আবার এর শৈল্পিক ব্যবহার মনে এমন একটি প্রতিরক্ষামূলক বাধা সৃষ্টি করে যেন মনে হবে আপনার দিকে আসা সকল অপশক্তিকে শুষে নিচ্ছে।
সাধারণত কালো রঙ মানুষের মনে যে ধরণের প্রভাব ফেলে তা নিম্নরুপঃ
ইতিবাচকঃ বোল্ডনেস, কর্তৃত্ব, বিশুদ্ধতা, নিয়মানুগত্য, রহস্য, গুরুত্বপূর্ণ ।
নেতিবাচকঃ ভয়, নিপীড়ন, উদাসীনতা।
নতুন জীবন এবং নতুনের মতো করা বুঝাতে সবুজ রঙের ব্যবহার উল্লেখ করার মত। সবুজ রঙ মনে যেমন প্রশান্তি ও স্বচ্ছন্দতা জাগিয়ে তুলে তেমনি অপরিপক্কতাকেও তুলে ধরে। প্রায়ই বিভিন্ন কোম্পানীর লোগোতে এই রঙের ব্যবহার চোখে পড়ে, বিশেষত: যারা নিজেদেরকে ইকো-ফ্রেন্ডলি হিসেবে পরিচিত করাতে চায়। এনিমেল প্ল্যানেট চ্যানেলের লোগোটি এর বড় উদাহরণ।
সাধারণত সবুজ রঙ মানুষের মনে যে ধরণের প্রভাব ফেলে তা নিম্নরুপঃ
সবচেয়ে লম্বা তরঙ্গদৈর্ঘ্যের হওয়ায় লাল বেশ শক্তিশালী একটি রং, তাই খুব দূর থেকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে। লাল রঙের এই ধর্মের কারণেই ট্রাফিক লাইটে এর ব্যবহার বিশ্বব্যাপী। লাল এমন একটি গাঢ় রঙ যা মানুষের মনে ভালবাসার মত তীব্র আবেগ জাগানো থেকে শুরু করে ব্লাড প্রেসার পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে। লোগো ডিজাইনে দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্যে বহুলভাবে ব্যবহৃত হয়।
সাধারণত লাল রঙ মানুষের মনে যে ধরণের প্রভাব ফেলে তা নিম্নরুপঃ
নীল এর সাইকোলজিক্যাল ইফেক্ট লাল এর পুরুই উল্টোটা, কারণ লাল রং কাজ করে ফিজিক্যালি আর নীল রং কাজ করে মেন্টাললি। নীল রং খুব সহজেই মনের মাঝে শান্ত করার অনুভূতি জাগিয়ে তুলতে পারে। বেশীরভাগ মানুষেই একটা ব্যাপারে একমত যে, ডিজাইনে অন্তত একটা নীল শেড থাকলেও সেটা তাদের প্রিয় হয়ে উঠে। বেশীরভাগ মানুষের প্রিয় রং নীল, তাই নীল রং কে বিশ্বব্যাপী মানুষের প্রিয় রং বলা হয়। এমনকি রিসার্চেও এটা প্রমাণিত হয়েছে।
নীল রঙ মানুষের মনে যে ধরণের মানসিক প্রভাব ফেলে তা নিম্নরুপঃ
ইতিবাচকঃ বুদ্ধিদীপ্ততা, যোগাযোগ দক্ষতা, প্রশান্ত ভাব, আস্থা, প্রত্যয়, নির্মলতা, বিশ্বাস।
নেতিবাচকঃ নির্লিপ্ততা, আবেগশূন্যতা।
হলুদঃ
অত্যন্ত দৃষ্টিগোচর একটি রং এবং দেখার জন্য সব থেকে সহজতম রং। তাই খুব সহজেই মানুষের মাঝে উদ্দীপনা জাগাতে পারে। হলুদ রং এর সঠিক ব্যবহার আমাদের মনে যেমন প্রফুল্লতা এবং আত্মসম্মানবোধকে জাগিয়ে তুলে তেমনি এর অতিরিক্ত ব্যবহার ভয় এবং উদ্বিগ্নতাকে জাগিয়ে তুলে।
মানুষের মনে হলুদ রঙ যে ধরণের মানসিক প্রভাব ফেলে তা নিম্নরূপঃ
লাল, হলুদ এবং কাল এর সমন্বয়ে রঙটি গঠিত। এর ফলে বাদামী রং মস্তিস্কে কালো রঙের মতই প্রভাব ফেলে কিন্তু এটি তুলনামূলকভাবে উষ্ণ এবং কোমলতার অনুভূতি জাগায়। বাদামী রংকে বলা হয় প্রকৃতির রং, এই রঙটি প্রাকৃতিক বা অর্গানিক বস্তুর সাথে সম্পর্কিত। বেশীরভাগ ডিজাইনাররাই পিউর ব্ল্যাক ব্যবহার করার চেয়ে বাদামী রং ব্যবহারের সাজেশন দিয়ে থাকেন।
মানুষের মনে বাদামী রঙ যে ধরণের মানসিক প্রভাব ফেলে তা নিম্নরুপঃ
কোন রং মানুষের উপর কিভাবে প্রভাব ফেলে সেটা অনেকখানি নির্ভর করে কিভাবে কোথায় রঙটি ব্যবহৃত হয়েছে, তাই গ্রাফিক্স ডিজাইনে রঙের ব্যবহার এবং সাইকোলজিক্যাল ইফেক্ট জানার পরই যে বিষয়টি চলে আসে সেটা হল রং এর ব্যবহার। গ্রাফিক্স ডিজাইনে রং এর ব্যবহার সম্পর্কে জানতে চাইলে আরও কিছু বিষয় আগে জানা লাগবে।
আপনি চাইলে ঘরে বসে একজন দক্ষ গ্রাফিক্স ডিজাইনার হতে পারেন । অনলাইনে অনেক গুরুত্ব পূর্ণ কিছু টুলস আছে যা ব্যবহার করে আপনি খুব সহজে দৃষ্টি নন্দন ডিজাইন করে ফেলতে পারেন । দক্ষ ডিজাইনার এর মুল বৈশিষ্ট্য হল তারা সব সময় সেলস মার্কেট প্লেসে কি ধরনের ডিজাইন বেশি বিক্রি হই ঐসব ফলো করে । ১০০ টি কালার কম্বিনেশন দেখে নিতে পারেন এবং আইডিয়া নিয়ে আপনি ও হতে পারেন এক্সপার্ট ডিজাইনার …